আধুনিক মাছচাষ বিষয়ে কিছু কথাঃ-


আমরা সবাই জানি বাঙালীর প্রিয় খাদ্য মাছভাত। এই কারণে পশ্চিমবঙ্গে মাছের বিরাট বাজার। ভারতবর্ষের অন্য কোনো রাজ্যে এই বিরাট বাজার পাওয়া যাবেনা। বর্তমানে আমাদের রাজ্যে যে পরিমাণ মাছের উৎপাদন হয়-সেই উৎপাদনের সপ্রায় তিনগুণ উৎপাদন করলে তবেই চাহিদা পূরণ করা যাবে। আমরা এও জানি বাহিরের কয়েকটি রাজ্য থেকে ঐ ঘাটতি পূরণ হয়ে থাকে। ঐ সমস্ত রাজ্যগুলিতে যে সব মাছচাষী মাছচাষ করেন তাঁরা মাছ চাষের মূল্য উপকরণ মাছের চারা প্রায় ৮০% এই আমাদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যায়। আবার ঐ চারমাছকে বড় করে খাবার উপযুক্ত করে আমাদের রাজ্যে পাঠায় এবং প্রচুর পরিমাণে মুনাফা করে। এটা আমাদের ব্যর্থতা ।

মাছচাষী কারাঃ- পুকুর, ডোবা, খাল, বিল বা জলাশয়ের মালিক হলেই মাছচাষী বলা যায় না। ঐ মালিক যদি মাছচাষের সঙ্গে যুক্ত হন তখন তিনি যেমন মাছচাষী আবার অন্যকোনো জন বা গোষ্ঠীর মানুষজন জলাশয় লিজ নিয়ে যদি মাছচাষ করেন তখনও ঐ জন বা গোষ্ঠীর মানুষজন মাছচাষী বলা যাবে। পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য দপ্তর চায় রাজ্যের প্রতিটি চাষযোগ্য জলাশয়ে মাছচাষ হোক।

আধুনিক মাছ চাষের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ-

১) আঁতুড় পুকুরে ডিমপোনার চাষঃ- সাধারণতঃ ৩শতক থেকে ৩৩শতক আয়তনের পুকুর বা জলাশয়ে এই চাষ হয়। এই ধরণের চাষে ১৫-২০দিন সময় লাগে। ৩০০০.০০ টাকা থেকে ৪০০০.০০ টাকা আয় হতে পারে। ২) পালন পুকুরে চারাপোনার চাষঃ- সাধারণত ১৫শতক থেকে ৬০ শতক হলে ভাল হয়। এই ধরণের চাষে ধানীপোনা ২ থেকে ২.৫ মাসে ৩ থেকে ৪ইঞ্জি সাইজের চারাপোনা তৈরী করা হয়। এই ধরণের চাষে লাভের পরিমাণ ঐ সময়ে ৬০০০.০০ টাকা থেকে ৮০০০.০০ টাকা। ৩) মজুত পুকুরে নিবিড় মাছ চাষঃ- সাধারণতঃ- এই জলাশয়ের আয়তন ৩৩শতক থেকে ২৫০ শতক। এই ধরণের চাষে ৬মাস থেকে ১ বৎসর হয়ে থাকে এবং খাবার মাছে উৎপাদন হয়ে থাকে। এক বৎসরে ১৮০০০.০০ টাকা থেকে ২০০০০.০০ টাকা লাভ হয়ে থাকে। ৪) মজুত পুকুরে সু-সংহত মাছ চাষঃ- এই পুকুরে আয়তনও ৩৩শতক থেকে ২৫০শতক হয়। এই ধরণের মাছচাষ নিবিড় মাছ চাষের মত বড় মাছের উৎপাদন হয় এবং মাছ চাষের সঙ্গে হাঁস, মুরগী বা শূকর চাষ হয়ে থাকে। এক বৎসরে ১ হেক্টর আয়তন জলাশয়ে লাভের পরিমাণ ২৪০০০০.০০, ২৬০০০০.০০ ও ২৭০০০০.০০টাকা। ৫) জিওল মাছের চাষঃ- যে সকল ছোট ছোট ডোবাকে আমরা এঁদো পুকর বলি বা যে সকল পুকুর জলজ উদ্ভিদে ভরে থাকে সেখানে জিওল মাছের চাষ হয়। অনেক ধরণের জিওল মাছ থাকলেও এগুলোর মধ্যে মাগুর বা শিঙ্গি নিয়েই এই চাষ ভাল হয়। এই চাষে ৫শতক ডোবাতে ৬ মাস থেকে এক বৎসরে ৬০০০.০০ থেকে ৮০০০.০০ টাকা লাভ হয়। ৬) গলদা চিংড়ির চাষঃ- এই চাষ এককভাবেও হয়। আবার পোনা মাছ অর্থাৎ রুই, মৃগেল, কাতলা সিলভার কাপ ও সাইপ্রিনাস মাছের সঙ্গে হতে পারে। পোনা মাছের সঙ্গে চাষ করলে ৩৩শতক পুকুরে বৎসরে লাভের পরিমাণ অতিরিক্ত ১০০০০/-, ১২০০০/- টাকা আবার এককভাবে এই চাষ করলে ঐ ৩৩ শতক পুকুরে আয় হয়- ৩০০০০/- থেকে ৪০০০০/- টাকা। প্রতি ধরণের চাষে নিয়মত চুন, খইল, গোবর, ইউরিয়া, সিঙ্গল সুপার ফসফেট এবং পরিপূরক খাবার ব্যবহার করা হয়। বর্তমাণে মাছ চাষে কিছু প্রতিবন্ধকতাঃ- মৎস্যদপ্তরের আধিকারিকরা আধুনিক মাছচাষের বিস্তার ঘটাতে চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সঠিকভাবে সম্ভব হচ্ছে না। এই প্রতিবন্ধকতাগুলি নানাবিধ যেমন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, পরিবেশদূষণজনিত প্রতিবন্ধকতা, সচেতনতার অভার জনিত প্রতিবন্ধকতা।


Navigation

  • Home
  • Slide Show
  • RTI তথ্যের অধিকার
  • CENSUS 2011
  • Contact Us

  • Whats New
  • SECC 2011
  • Development Meeting
  • SC/ST/OBC Student Scholarship
  • (অনলাইনে আবেদন)

  • Order & Notice
    Important Link
    Bookmark Us
    WebMaster
    GP Login
  • Legal Disclaimer